অবশেষে বগুড়ার মাটি স্পর্শ করেছে করোনা ভাইরাসের থাবা। ঢাকা থেকে আসা একজন পুলিশ কনষ্টবলের শরীরে সনাক্ত হয়েছে করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯। আদমদীঘি উপজেলার নশরৎপুর এলাকার সাউল গ্রাম তার বাড়ী। তিনি ডিএমিতে কর্মরত।এর আগে তিনি জামালপুরে র ্যাবে কর্মরত ছিলেন।গত ফেব্রুয়ারী মাসে তিনি ডিএমপিতে যোগদান করেন।গত ১০এপ্রিল তারিখে তিনি ছুটিতে বাড়ীতে আসেন।
এ বিষয়ে বগুড়া স্বাস্থ্য বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে না জানালেও একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এ বিষয়টি নিশ্চিত করে। শেষ খবর পর্যন্ত তিনি তার বাড়ীতেই অবস্থান করছিলেন।এ দিকে তার শরীরে কোভিড-১৯ ধরা পড়ার কথা জানা জানির পর গোটা অঞ্চলে এখন আতংকের পাশাপাশি উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য মতে ঢাকায় কর্মরত ২৯ বছর বয়সী পুলিশ কনষ্টবল করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়েই তার নিজ বাড়ী আদমদীঘি উপজেলার নশরৎপুর এলাকার সাউল গ্রামে আসেন। তার শরীরের অবস্থা অবনতি হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা না গেলেও তার নমুনা পরীক্ষার জন্য গত ১৩তারিখে তার শরীর থেকে নমুনা নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে আসা রির্পোটে তার শরীরে করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ সনাক্ত হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি গোটা অঞ্চলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। খবর পেয়ে একটি বিশেষ দল তাকে উদ্ধার করে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নিয়ে আসার জন্য জরুরী ভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান কোভিট -১৯ রোগে আক্রন্ত হবার পরও পুলিশ কনষ্টবল আহসান হাবিব হাসপাতালে আসতে রাজী হননি তিনি এবং তার পরিবারের দাবী তিনি নিজ বাড়ীতে হোমকোরাইন্টাইনে থেকেই নিজের চিকিৎসা করবেন। এদিকে এলাবাসী জানান তিনি হোম করেন্টাইন কোন ভাবেই মানছেননা।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিকচিকিৎসক( আরএমও ) শফিক আমিন কাজল বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদ সংস্থা এফএনএস’কে জানান, তাকে আনার জন্য সেখানে রাতেই এ্যম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ব্যাক্তি হাসপাতলে আসতে অপারকতা জানিয়েছেন বলে তাকে জানানো হয়েছে।
এদিকে এলাকাবাসীদের অভিযোগ জানা গেছে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হবার পরও আহসান হাবিব গোটা এলাকায় দাফিয়ে বেড়াচ্ছেন-
বৃহস্পতিবার বিকেলেও তিনি মোটর সাইকেলে করে বাজারে ঘুড়ে বেড়িয়েছেন।স্টলে চা খেয়েছেন। যে কারণে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক এবং অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শেষ খবর পর্যন্ত রাতে ১২টার পর তাকে বগুড়া মোহাম্মদ হাসপাতালের আইলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে রাত ১২টা থেকে ওই উপজেলাকে লক ডাউনের ঘোষোনা দেন উপজেলা প্রশাসন।
উল্লেখ্য ইত্বপর্বে রংপুরের এক ব্যাক্তির শরীরে কোবিড -১৯ ধরা পড়লে তাকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করার পর তার শরীর থেকে নমুনা রাজশাহীতে পাঠানো হয়। কিন্তু ওই রির্পোটে তার শরীরে কোভিড নিল হিসাবে উল্লেখ করা হয়। পরে ১৪দিন চিকিৎসায় থাকার পর তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড় পত্র দেয়া হয়।