খেলোয়াড়ী জীবন শুরু ক্রিকেট দিয়ে। জুনিয়র ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্সে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্রিকেটের সম্ভাবনা পূর্ণতা পায়নি, বেছে নেন ফুটবল। ক্রিকেটে থাকলে হয়তো হতে পারতেন বিশ্ব সেরাদের একজন। অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফেরও দৃঢ় বিশ্বাস, ফুটবলে না গেলে ফিল নেভিল হতে পারতেন ইংল্যান্ডের রিকি পন্টিং অথবা শচিন টেন্ডুলকার। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে নিজেকে মেলে ধরেন নেভিল। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের অপ্রতিরোধ্য ইউনাইটেডের ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতেন এই রাইট-ব্যাক। তিনবার করে জেতেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, এফএ কাপ ও কমিউনিটি শিল্ড শিরোপা। ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেন ৫৯ ম্যাচ। এক দশকের বেশি সময় খেলে ইউনাইটেড ছাড়ার পর এভারটনে ছিলেন আট বছর। ২০১৩ সালে ইউনাইটেডের কোচিং স্টাফের সদস্যও ছিলেন। এখন ইংল্যান্ড নারী ফুটবল দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করছেন। দুর্দান্ত এই ফুটবলারের সঙ্গে একসময় জুনিয়র ক্রিকেটে খেলেছেন ফ্লিনটফ। টকস্পোর্টসের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে ইংলিশ এই অলরাউন্ডার জানান, সে সময়ই ক্রিকেটে নেভিলের প্রতিভা দেখেন তিনি। “ফিল নেভিলের সঙ্গে আমি ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে জুনিয়র ক্রিকেট খেলেছি। সে আমার চেয়ে এক বছরের বড় ছিল এবং সে ছিল ক্রিকেট প্রতিভা।” “এটা অনেক বড় শোনাতে পারে, তবে আমি মনে করি যে সে ইংল্যান্ডের রিকি পন্টিং অথবা শচিন টেন্ডুলকার হতে পারত। সে ওই পর্যায়ের ভালো ছিল। সচরাচর যেটা হতো, সে ওপেনিং ব্যাটিংয়ে নামত এবং প্রতিবার ১০০ করত। এরপর বোলিংয়ে এসে সবাইকে আউট করে দিত।” ইংল্যান্ডের হয়ে ৭৯ টেস্ট, ১৪১ ওয়ানডে ও ৭ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ফ্লিনটফ। ২০০৫ অ্যাশেজ জয়ে রাখেন বড় অবদান। নিজের সময়ে ছিলেন বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। তারপরও ফ্লিনটফ মনে করেন, নেভিল ক্রিকেট ছেড়ে ফুটবলে ক্যারিয়ার না গড়লে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেই হয়তো ক্যারিয়ার শেষ করতে হত তাকে। “সে একজন গতিময় বোলারও ছিল। ল্যাঙ্কাশায়ার থেকে একটা চুক্তির প্রস্তাব পায় সে; বছরে আড়াই হাজার পাউন্ড নাও অথবা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেল। ভাগ্যক্রমে, সে ইউনাইটেডে চলে যায়, অন্যথায় আমার ক্যারিয়ার ডার্বিশায়ার কিংবা অন্য কোথাও শেষ হয়ে যেত।”