সারা বিশ্ব যখন চিন্তিত করোনা মোকাবিলা নিয়ে তখন জীবিকা নিয়ে চিন্তিত সাধারন নিম্ন মধ্যবিত্তরা। সারা বিশ্ব ন্যায় বাংলাদেশে করোনার প্রভাবে লকডাউন অবস্থ্যায় মানুষকে ঘরে থাকতে হচ্ছে। কর্ম থেকেও এখন সবাই কর্মহীন । বর্তমান অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে সবচেয়ে বেশি বিপদে তারাই পরবেন যারা নিম্ন মধ্যবিত্ত। কারন, সাধারণত সরকারী হোক বা বেসরকারী, যতটটুকুই হোক না কেন- বগুড়ার শেরপুর সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেসব সাহায্যমূলক খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রী “করোনা” মোকাবিলায় বিতরণ করা হচ্ছে তার সবটুকুই অসহায় ও কর্মহীন দরিদ্রদের মধ্যে। মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্তরা কিন্তু নিজেদের মর্যাদা বা শ্রেণী বজায় রাখতে নীরবে আছেন। কারণ তাদের ইচ্ছে থাকলেও পারছেন না ফটোসেশন করে সরকারী বা উচ্চবিত্তদের কাছ থেকে ত্রাণ গ্রহণ করতে। অন্যদিকে স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ থাকায় পারছেন না জমানো যতসামান্য পুঁজি দিয়ে আগামী কয়েকদিনের জন্য খাদ্য সামগ্রী মজুত করতে। পরিসংখ্যান অফিসের তথ্য অনুযায়ী বগুড়ার শেরপুর ২০১১ সালের হিসেবে শেরপুর উপজেলায় মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকসংখ্যা ১ লক্ষ ৫৬ হাজার ৭২ জন। তবে মধ্যবিত্তদের বর্তমান কোনো পরিসংখ্যান নেই।মানুষের মৌলিক ৬টি চাহিদার মধ্যে ৪টি নিয়েই চিন্তিত এই মধ্যবিত্তরা ও নিম্ন মধ্যবিত্তরা, যেমন- খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা। হয়তো এখনও মধ্যবিত্তদের অবস্থা সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে সবচেয়ে বিপদে এরাই পড়বেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমান অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে হয়তো টিসিবি-র পণ্য ক্রয় করার মত টাকাও থাকবে না মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের কাছে। স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ থাকায় প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্য জুটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে, তার ওপরে আবার চিকিৎসা ও শিক্ষার বিষয় তো থাকছেই। কারণ তারা (মধ্যবিত্তরা) মনে করছেন বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে পরিবারের যেকোনো ব্যক্তির সঙ্কটপূর্ন চিকিৎসা করানোর সাধ্যও থাকবেনা তাদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নিম্ন মধ্যেবিত্তর সাথে কথা বললে তিনি জানান, এই লকডাউনে কাটানো সময়গুলো প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো যদি তাদের সবধরনের টাকা প্রদান বা বেতন স্পষ্ট মওকুফ না করে তাহলে হয়তো অনেক পরিবারই তাদের সন্তানদের স্ব-স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করানোর সক্ষমতা হারাবেন। অপরদিকে আমরা ইচ্ছা করলেই ভ্যান বা মানুষের বাড়িতে কামলা দিতে পারব না এবং কারো কাছে হাত পাতানো সম্ভব না।
এই মধ্যেবিত্তরা তাদের চিন্তা কিভাবে তারা এই দীর্ঘ সময়ের সংকটময় অবস্থা থেকে নিজেদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করবেন? এই ক্ষেত্রে প্রতিটি মধ্যবিত্তদের আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী তাদের সামাজিক মর্যাদা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থান সামাজিক সুযোগ-সুবিধাকেও বিচারের মাপকাঠিতে আনতে হবে। তবে শেরপুরের উল্লেখযোগ্য অংশই নিম্নমধ্যবিত্ত। এরা বেশির ভাগই ছোট বেসরকারি চাকরি, ছোট ব্যবসা ও বিভিন্ন ধরনের দৈনন্দিন কাজের ওপর নিভ্ররশীল।
মধ্যবিত্তদের মৌলিক চাহিদার বিষয়ে কোনো সরকারি পরিকল্পনা আছে কি না এমন কথার জবাবে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: লিয়াকত আলী সেখ বলেন, আপাতত আমরা মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কর্মহীন-নিম্নবিত্তদের তালিকা প্রস্তুতের মাধ্যমে সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছি এবং সরকার নিম্ন মধ্যেবিত্তদের নিয়েও পরিকল্পনা করেছে পরবর্তী নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করব।