সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বরিশালের খোলা মাঠে স্বাস্থ্য বিধি মেনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের হাট ও বাজার চালু করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে দেশের সকল হাট-বাজার ও কাঁচাবাজারগুলো পার্শ্ববর্তী স্কুল মাঠে বা খোলা জায়গায় স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন।
জানা গেছে, বরিশালের সবধরনের হাট-বাজার, কাঁচাবাজার ও মাছের বাজার নিকটবর্তী খোলা মাঠে স্থানান্তরের কার্যক্রম শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। জেলার দশটি উপজেলায় ইতোমধ্যে গৌরনদী, বাকেরগঞ্জ, উজিরপুর, বানারীপাড়া উপজেলায় হাট-বাজারের কার্যক্রম শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাবরোধে স্বাস্থ্য বিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অনেকেই কেনাকাটা করতে আসেন। তাই করোনা ভাইরাস ছড়ানোর আশংকা থাকে। সে কারণে জেলার হাট-বাজারগুলোকে খোলা মাঠে বা স্থানে সামাজিক দূরত্ব মেনে স্থাপন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক এক এলাকার লোকজনকে কেনাকাটার জন্য অন্য এলাকায় বা ওয়ার্ডে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এজন্য সচেতনতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে।
জেলার মধ্যে সর্বপ্রথম সামাজিক দূরত্বে সাপ্তাহিক হাট বসেছে জেলার গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নে। মাহিলাড়া হাট-বাজার ব্যবস্থাপণা কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু বলেন, করোনার কারনে গৌরনদী উপজেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম মাহিলাড়া হাট এতোদিন বন্ধ ছিলো। কিন্তু গ্রামীণ অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাখতে মাহিলাড়া হাটকে সড়কের উপর থেকে স্থানান্তর করে মাহিলাড়া কলেজ মাঠে নেয়া হয়েছে। সেখানে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান খোলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বুধবার সকাল থেকে মাহিলাড়া ইউনিয়নে সামাজিক দূরত্বের এ হাট চালু করা হয়। এখানে আগের মতো প্রতি সপ্তাহের বুধ ও শনিবার হাট মিলবে। একেকটি দোকানে একজনের বেশি বিক্রেতা ও ক্রেতা যাতে ভীর করতে না পেরে সেজন্য সামাজিক দূরত্বের হাটে গ্রাম পুলিশকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।