বগুড়ায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি কমানো ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বগুড়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের বগুড়ার তিনটি খুচরা বাজার শহরের জলেশ্বরীতলার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে স্থানান্তরীত করার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্য এর বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বাজারটি পাশ্ববর্তী মাঠে স্থানান্তরিত করার দাবীতে মানব বন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী ।
প্রশাসনিক দায়িত্বশীলরা বলছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে অন্যান্য এলাকার বাজারগুলোও উন্মুক্ত স্থানে সরানো হবে।অন্য দিকে আবাসিক এলাকায় এ ধরনের কাঁচাবাজার প্রতিষ্ঠায় এলাকাবাসীর মধ্য অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এদিকে শহরের আভিজাত আবাসিক এলাকা হিসাবে পরিচিত জলেশ্বরীতলা এলাকা তথা ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা বিষয়টি দেখছেন অন্য ভাবে । এ ধরনের খুচরা বাজার ও বাজারে লোক সমাগম মানুষের মাঝে সংক্রমণ বাড়াতে পারে বলে আশংকা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। কিন্তু খুচরা দোকানী ও ক্রেতারা খোলা মাঠে বাজারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
শহরের কাঁচা ব্যবসায়ী ও একটি দায়িত্বশীল মহল এ বিষয়ে স্বস্তিও প্রকাশ করে বলেছেন এভাবে বাজার স্থাপনে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় দোকানদার আর ক্রেতাদের সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করছে রাজাবাজার ও ফতেহআলী বাজার দোকান মালিক সমিতি।
অন্যদিকে শহরের অভিজাত এলাকা হিসাবে পরিচিত জলেশ্বরী তলা এলাকার ব্যবসায়ী মহল এবং বাসিন্দারা বলছেন আমরা সরকারের এই উদ্যোগের বিরোধীতা করছিনা । আমরা শুধু বিষয়টি পূনঃ বিবেচনার দাবী জানিয়ে বলেছেন,যে হেতু পার্শ্ববর্তী এলাকায় বগুড়া জেলা স্কুলের অনুরুপ একটি মাঠ রয়েছে । শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকছে । যদি এই খুচরা কাঁচা বাজারটি সেখানে অস্থায়ী ভিত্তিতে বসানো যায় তাহলে সব দিক থেকে বিষয়টি নিরাপত্তা নিশ্চিত হতে পারে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে এলাকাবাসী এই খুচরা বাজারটি পাশ্ববর্তী মাঠে স্থানান্তরিত করার দাবীতে মাঠে শান্তিপূর্ন মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে । এসময় কর্মসূচি পালনকারীরা বলেন, এখানে নেই কোন পানি সরবরাহের ব্যবস্থা ।মাঠে স্থাপিত মাছের বাজারটি এরি মধ্যে দূর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে।এখানে নেই কোন পায়খানা ও প্রস্রাব ব্যবস্থা । এভাবে চললে এলাকাবাসী স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির মধ্য পড়বে।
এসময় বক্তব্য রাখেনস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা এ্যডোনিস বাবু ,ইঞ্জিনিয়ার হেলাল খান,রেজাউল বারী ঈশা,মোশারফ হোসেন মুকুল,এ্যাডঃ নূর সাঈদ.মোন্তাজুর রহমান,নূরে আলম সিদ্দিকী পল্লব,তমসের আলী প্রাং,বুলু মিয়া ,আব্দুর রউফ প্রমুখ। এলাকা জানান , তাদের দাবী বিবেচনা না করা হলে পরবর্তিতে তারা বিকল্প ও শক্ত কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
এদিকে এলাকাবাসীর শান্তি পূর্ন মানব বন্ধন কর্মসূচিতে বাগড়া দেয় পুলিশ । পুলিশের বাঁধার মুখে মানব বন্ধন কর্মসূচি পন্ড হয়ে যায় ।