বগুড়ার শেরপুরে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সরকারি আদেশ অমান্য করায় ১৩ এপ্রিল উপজেলার কলেজ রোড়, ব্রাক বটতলা, গাড়ীদহ বাজার, মহীপুর বাজার, আকরামপুর, কুসুম্বী, আলতাদিঘী ও রণবীরবালায় সামাজিক দূরত্ব ও হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে বিকাল ৫ টা থেকে রাত ৮ পর্যন্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ লিয়াকত আলী সেখ। উক্ত অভিযানে সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে দোকান খোলা রাখায় ও গণজমায়েত সৃষ্টি করায় ৭ জনকে বিভিন্ন আইনে ৪৮০০ টাকা জরিমানা করেন। তিনি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে যারা ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছেন তাদেরকে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য নির্দেশনা দেন।
অপরদিকে সরকারি আদেশ আমান্য করে গণজমায়েত সৃষ্টি করায়, অযথা বাইরে ঘুরাঘুরি করায়, একের অধিক আরোহী নিয়ে মোটরসাইকেল চলাচল করায় শেরপুর উপজেলার ধুনট মোড়, রণবীরবালা, শুবলী, শেরশাহ মার্কেট গলি, শুভগাছা বাজার, জামাইল হাট, দয়ালসাড়া বাজার, বারদুয়ারী হাটে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৯ জনকে ৬৮০০ করেন সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব জামশেদ আলাম রানা। বেলা ১১ টায় কিছু অবিবেক দোকানদার দোকান খোলা রাখায় ফলপট্টিতে প্রচুর লোকজনের উপস্থিতি দেখা যায়। ফলপট্টির কয়েকজন ব্যবসায়ীকে সতর্ক করা হয় এবং ২ জনকে জরিমানা করা হয়। দুপুর ১২ টায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সাপ্তাহিক বারদুয়ারী হাট বসায় অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং হাট ভেঙেগ দেওয়া হয়। বিকাল ৫.৩০ টায় বিশালপুর ইউনিয়নের জামাইল হাট ও দয়াল সাড়া বাজারে দোকান খোলা রেখে আড্ডাবাজীতে সহায়তা করায় ৩ জনকে মোট ৩৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জামশেদ আলাম রানা বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনগনকে সচেতন করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। সরকারি আদেশ অমান্য করায় বিভিন্ন জনকে জরিমানা করছি। আশা করি সবাই ঘরে থাকবে। জরুরী প্রয়োজন মিটিয়ে তারাতারি বাড়ি ফিরে যাবে।
এ ব্যাপারে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তিনি জানান, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় যারা সরকারি বিধি অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সবাই কে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন এই কর্মকর্তা। জনস্বার্থে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।