বগুড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারকার্য চলার এক পর্যায়ে সাজার রায় হয়। এসময় আদালত থেকে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার সাড়ে ৩মাস পর ৮ মামলার আসামী ও অন্য একটি মামলায় দেড় বছরের সাজাপ্রাপ্ত আন্তঃ জেলা চোর পলাতক আসামী আব্দুল হালিমকে (২৫) আটক করেছে পুলিশ।
১২ এপ্রিল রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের শেরপুর পৌর শহরের হাজীপুর এলাকায় গাড়ী ভাংচুর করায় জনগনের সহযোগিতায় শেরপুর থানা পুলিশ ওই পলাতক আসামীকে গ্রেফতার করে থানায় আনে।
জানা গেছে, উপজেলার গাড়িদহ মডেল ইউনিয়নের গাড়িদহ গ্রামের মৃত হাফিজার রহমানের ছেলে ৮টি চুরি মামলা ও অন্য একটি মামলায় দেড় বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী মো.আব্দুল হালিম সন্ত্রাসী কায়দায় গত ১২ এপ্রিল রোববার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের শেরপুর পৌর শহরের হাজীপুর এলাকায় গাড়ী ভাংচুর করছিল। এসময় শেরপুর থানা খবর পেয়ে এএসআই রফিকুল ইসলাম ও পুলিশ সদস্য নূর ইসলাম তাকে আটক করতে গেলে পুলিশ সদস্যদের মারধর করে পালিয়ে যাওয়ার সময় সাধারণ লোকজন চোর হালিমকে আটক করে।
এ ব্যাপারে শেরপুর থানার এএসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে হালিমকে আটক করতে গেলে সে আমাকে ও আমার সাথে থাকা কনস্টেবল নূর ইসলামকে বেলচা দিয়ে আঘাত করে।
উল্লেখ্য গত ২০১১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে বগুড়ার শেরপুরে নিজাম উদ্দিন টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ থেকে কম্পিউটার চুরি হয়। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ খন্দকার নাজমুল হক ওই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি শেরপুর থানায় স্থানীয় গাড়িদহ গ্রামের মৃত হাফিজার রহমানের ছেলে আবদুল হালিম, আকরামপুর গ্রামের আবদুস সামাদের ছেলে আরিফ চৌধুরী ও বগুড়া শহরের ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়ার মাহফুজার রহমানের ছেলে সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন ছিল।
গত ২৭ জানুয়ারি সোমবার এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুপ্রিয়া রহমান তার রায়ে আবদুল হালিম ও আরিফ চৌধুরীকে দেড় বছরের কারাদ-াদেশ দেন। রায় ঘোষণার পরপরই আদালতের কাঠগড়া থেকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি আবদুল হালিম লাফ দিয়ে পালিয়ে যান। কর্তব্যরত পুলিশ তাকে আটক করতে ব্যর্থ হয়। রায় ঘোষণার পরপরই সাজাপ্রাপ্ত আসামি আবদুল হালিম কাঠগড়া থেকে পালিয়ে গেছেন। তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে পুলিশ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা হয়।
এ প্রসঙ্গে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, গত জানুয়ারী মাসে একটি চুরির মামলায় হালিমকে আটক করে কোর্টে নিয়ে গেলে আদালত থেকে পালিয়ে যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। এবং তার বিরুদ্ধে ৮টি চুরি মামলাসহ অন্য একটি মামলায় তার দেড় বছরের সাজা রয়েছে।