বগুড়া ত্রানের জন্য মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে শ’ শ’ নারী পুরুষ। শনিবার সকালে শহরের মাটিডালী মোজামনগর এলাকায় বগুড়া পৌরসভার ১৭ নং ওয়ার্ডের বারপুর উত্তর মধ্যপাড়া গ্রামের কর্মহারানো প্রায় ৩শতাধিক শ্রমজীবি পরিবারের সদস্য সদস্যারা এই মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ করে।
জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের সংক্রামন রোধে সরকারী নিষেদ্ধাজ্ঞা ও লক ডাউনে কারণে দেশের লক্ষ লক্ষ ঘড় বন্দি শ্রমজীবি পরিবার বেকার হয়ে পড়ে। গত কয়েক দিনের লক ডাউনের ধকলে বিভিন্ন পেশাজীবি শ্রমিক ও গতর খেতে খাওয়া দিন মজুর ঘড় বন্দি মানুষ এখন চরম খাদ্য সংকটে। বগুড়া পৌর এলাকার ১৭ নং ওয়ার্ডের ঘড় বন্দি প্রায় ৩শতাধিক পরিবার অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছিল।
তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে বেকার হয়ে পড়া ক্ষুধার্ত পরিবার গুলি রাস্তায় নেমে আসে। এ সময় তারা স্থানীয় ১৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মেসবাউল হকের বিরুদ্ধে ত্রান সহযোগিতার জন্য মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ করে।
এলাকার শ্রমিক আজিজার রহমানের স্ত্রী আঙ্গুরী বেগম(৫৫),চা দোকানী মুকুলের স্ত্রী তাসলিমা (৪০)সাইকেল মেকার জুয়েলের স্ত্রী রোকেয়া বেগম(৩৪)ডাব বিক্রেতা জোব্বারের স্ত্রী আফরোজা (৫০) সংবাদ সংস্থা এফএনএস’কে জানান, স্বামীর উপার্জনে তাদের পরিবারের ভরন পোষন চলতো। এখন তারা রাস্তায় যেতে পারছেনা। এখন তাদের কাজ নেই কামাই নেই। গত কয়েক দিন ঘড়ে যা ছিল তা দিন কোনভাবে অর্ধাহারে দিন চলেছে। কিন্তু এখন তাদের পরিবারগুলো অনাহারের কবলে। এ যাবত তাদের ভাগ্যে কোন ত্রান জোটেনি। এমনকি তাদের খোঁজ নিতেও কেউ আসেনি।
এলাকার বাদশার ছেলে প্রতিবন্দি আয়নাল(২৫)তার একটি হাত নেই। স্থানীয় একটি এনজিও অফিসে নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ করতো দিন বেতনে। সে অফিস বন্ধ থাকায় এখন সে সমপূর্ন বেকার। তার পরিবারের ৫/৬জন সদস্য সদস্যা এখন অর্ধাহারে অনাহারে রয়েছে।
এলাকার বাসের হেলপার রফিকুলের স্ত্রী মোর্সেদা (৩৬)মৃত মন্টু মিয়ার স্ত্রী নাছিমা(৫০) জানান, তার ছেলে বাসের হেলপার। গাড়ী বন্ধ থাকায় তার কোন উপার্জন নেই।সরকারী ত্রানের দাবীতে রাস্তায় নেমে আসা পরিবারগুলি আকুল আবেদনে জানায়, আমাদের বাঁচান, ঘড়ে খাবার নেই বাড়ীর বয়স্ক এবং শিশুদের মুখে তারা দু’মুঠো খাবার দিতে পারছেননা।
শনিবার বেলা সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ত্রান ও খাবার দাবীতে মানব বন্ধন করে বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষ। পরে খবর পেয়ে বগুড়া সদরের নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহা আজিজুর রহমান সেখানে যান। এ সময় তিনি তাদের জানান ,এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এ সময় সেখানে থাকা শ’ শ’ নারী পুরুষ শান্তিপূর্ন ভাবে বিক্ষোভ করে এবং খাবার চাই ,ত্রান চাই ,বাঁচতে চাই লিখা বিভিন্ন প্লকার্ড প্রদশর্ন করে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে।এসময় ইউএনও আজিজুর রহমান তাদের ঘড়ে যেতে অনুরোধ করেন এবং ত্রানের আস্বাস দিলে ক্ষুধার্ত নারী পুরুষ তাদের শান্তিপূর্ন মানব বন্ধ প্রত্যাহার করে।