বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া (কোভিড-১৯) করোনা ভাইরাস সম্পর্কে জনগণ কে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ও সচেতনতা করে ঘরে ফেরাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বগুড়ার সান্তাহার টাউন ফাঁড়ির পুলিশ। তারা বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে টহল অব্যাহত রেখেছেন। টাউন পুলিশের পাশে দাঁড়িয়েছেন সান্তাহার কর্তব্যরত সাংবাদিকেরা। তারাও পুলিশের সাথে ঘর থেকে বের হয়ে আসা সাধারন মানুষদের সচেতন করছেন। পাশাপাশী তারা সচেতনামূলক প্রচার প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। সারা দিন ব্যাপী সান্তাহার শহরের জনসমাগম এড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা, হাট-বাজার বন্ধ রাখাসহ সবাইকে ঘরে থাকতে সরকারি নির্দেশনামতে নানামুখী পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়।
পুলিশের এই কঠোর অবস্থানের পরও শহরে নানান অজুহাতে বাহিরে থাকা মানুষকে ঘরে ফিরাতে গিয়ে পুলিশ বেশ হিমশিম খাচ্ছেন। শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পযর্ন্ত সান্তাহার পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে নানান অজুহাতে বাহিরে থাকা মানুষদের ঘরে ফিরাতে গিয়ে শহর পুলিশ কে বেশ হিমশিম খেতে হয়েছে। আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম আব্দুরল্লাহ বিন রশিদের নেতৃত্বে সেনা বাহিনী, পুলিশ ও গ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় আদমদীঘি সদর, সান্তাহার পৌর শহর, মুরইল বাজার, সাওইল বাজার, ছাতিয়ানগ্রাম বাজার, চাঁপাপুর বাজার, কুন্দুগ্রাম, কড়ই, নসরতপুর, ছাতনি-ঢেকড়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সমূহের মোড়ে মোড়ে সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করেছে। সান্তাহার নিউ কলোনীর বাসিন্দা মাসুদ রানা জানায়, যতক্ষণ পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শহরে টহল দিচ্ছে, সেই সময় পর্যন্ত লোকজনের চলাচল বন্ধ থাকছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চলে যাওয়ার পর আবারও লোকজনসহ অটো-চার্জার এবং সিএনজি ও মোটর বাইক চালকরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে শহরের বিভিন্ন স্থানে। সান্তাহার টাউন ফাঁড়ির কর্মকর্তা ইনচার্জ আনিসুর রহমান বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাব যাতে না পড়ে সে লক্ষে সরকার মানুষ কে ঘরে রাখার জন্য নানামুখী প্রচার-প্রচারণা এবং ছিন্নমুল মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণসহ অন্যান্য পদক্ষেপ নিলেও বিভিন্ন অজুহাতে মানুষ বাহিরে এসে যত্রতত্র সংঘবদ্ধ হয়ে আড্ডা করছে।
আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ বলেন, ওষুধের দোকান, শিশু খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকানপাট নির্ধারিত সময়ে চালু রাখাসহ অন্য সকল দোকানপাট বন্ধ রাখা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।