সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন নিয়ে, পুঠিয়ায় দুইটি স্থানে জমির শ্রেনী পরির্বতন না করে ফসলী জমিতে পুকুর খননের কাজ চলছে। সরকারী ভাবে পুকুর খননের অনুমোদন দেয়ার কথা শুনে, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে পুকুর খননকারীরা যোগাযোগ করতে দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীদের অভিযোগ, দেশে এখন করোনাভাইরাস নিয়ে মহা দুর্যোগ চলছে। এই সময়, পুকুর খননের মাটি রাস্তায় ফেলে এলাকা ধুলাময় করে প্রতিববন্ধকতা সৃস্টি করা হচ্ছে।
জানা গেছে, উপজেলার জিউপাড়া ইউপির বিলমাড়িয়া মৌজায় শাহিন আলমকে গত ২৫ মার্চ রাজশাহী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ নজরুল ইসলাম ০৫.৪৩.৮১০০.০১৫.০৭.১০৩.২০-৯৪৪ নং স্মারকে তাকে পুকুর খননের অনুমোদন দিয়েছেন। জেলা প্রশাসকের অনুমোদন নিয়ে শাহিন আলম তিন একরের দুই ফসলী ধনী জমিতে কয়েকটি স্কেভেটারের মাধ্যমে দ্রুতগতিতে পুকুর খনন করতে দেখা যাচ্ছে। শাহিনের ফসলী জমিতে রাতা-রাতি পুকুর খননের কাজ করতে দেখে। আশ-পাশের অন্য বিল গুলোতে ফসলী জমি পুকুর খনন করার জন্য উপজেলা ভূিম, কৃষি, মৎস অফিস গুলোতে খননকারীরা যোগাযোগ করতে দেখা যাচ্ছে। কারণ, উপজেলার ভূিম, কৃষি, মৎস অফিস সুপারিশ করলেই জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে পুকুর খননের অনুমোদন পাওয়া যাচ্ছে। উপজেলার বেলপুকুর ইউপির ছত্রগাছা মৌজায় দুই ফসলী ১০ একর কয়েকজন কৃষকের জমি। দুর্গাপুর উপজেলার রাজু নামের মৎস ব্যবসায়ীকে জেলা প্রশাসক পুকুর খননের অনুমোদন দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীরা অভিযোগ তুলেছেন, দুই ফসলী জমিগুলো উক্ত এলাকার শওশীলদার, মৎস, কৃষি অফিসগুলো মোটা অংকের অর্থ নিয়ে জমি শ্রেনী পরিবর্তন করার যাবে মর্মে জেলা প্রশাসকের কাছে সুপারিশ করে ছিলেন। এলাকায় জমির শ্রেনী পরিবর্তন করার কৌশল জানার পর, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নতুন পুকুর খনন শুরু করার জন্য খননকারীরা উঠে পড়ে লেগেছেন। আর এক শ্রেণীর মৎস্য ব্যবসায়ীরা বেশী টাকার লোভ দেখায়ে ফসলী জমিতে দ্রুতগতিতে পুকুর খনন করে ফেলছ্।ে এলাকাবাসী অভিযোগ দিলে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ পুকুর খননের কাজ বন্ধ করে দিচ্ছেন। তারপর কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর পূর্ণরায় আবার খনন কাজ শুরু হচ্ছে। এলাকারবাসীদের অভিযোগ উপজেলায় কোনো পুকুর খনন দীর্ঘ দিন যাবত বন্ধ হয়ে থাকছে না। কয়েকটি পুকুর আবার বিলে বৃষ্টির পানি প্রবাহের স্থলে খনন করার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে এলাকার বেশীর ভাগ সাধারন কৃষক বিলে পানি বন্দি থেকে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকার ফসলহানী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেখা গেছে, বেশীর ভাগ খননকৃত পুকুর গুলো ধান চাষের উপযোগি কিংবা বিভিন্ন বিলের নিচু জমিতে। অনেক স্থানে বর্ষা মৌসুমে বিলের পানি প্রবাহের গতিপদে পুকুরের বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। উপজেলার জিউপাড়া ইউপির ১নং ওয়ার্ডের বিলমাড়িয়া গ্রামের ইউপি সদস্য মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, দেশে এখন করোনাভাইরাস নিয়ে মহা দুর্যোগ চলছে। এর ভেতর পুকুর খননের মাটি রাস্তায় ফেলে এলাকা ধুলাময় করে প্রতিববন্ধকতা সৃস্টি করা হচ্ছে। এই এলাকার সাধারণ মানুষের অনুরোধের, আমি নিজ উদ্যোগে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের অফিস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস, থানায় মুঠোফোনে মাধ্যমে এলাকাবাসীদের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছি।
এ ব্যাপারে রাজশাহী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, আমি কোনো পুকুরের অনুমোদন দিয়েছি। এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। জিউপাড়া ইউপির বিলমাড়িয়া এবং বেলপুকুর ইউপির ছত্রগাছা গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এখন এলাকাবাসীদের করোনা নিয়ে ভাবা উচিত। আমি এখন বাহিরে আছি।