সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীর তানোরে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেনারেল রিলিফ (জিআর) বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু এই বরাদ্দ বিভাজনের ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিরা প্রতিবন্ধীদের সঙ্গে বৈষম্য আচরণ করেছেন। একারণে জিআর বরাদ্দের এতোটুকু সাহায্য ও সহায়তা পাননি এ অঞ্চলের প্রতিবন্ধীরা। এ অবস্থায় কোন হৃদয়বান ব্যক্তি প্রতিবন্ধীদের সাহায্য সহায়তায় এগিয়ে আসেন নি। ফলে কর্মহীন প্রতিবন্ধীরা ঘরে বসে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় মানবিক সহায়তা হিসেবে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্ততর হতে গত ২৪ ও ২৮ মার্চ জেনারেল রিলিফ (জিআর) প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৬০০ মেট্রিকটন চাল তানোর উপজেলায় বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বরাদ্দের এসব চাল বিভাজন করে পরিষদের মেয়র ও চেয়ারম্যানের তালিকা মোতাবেক প্রত্যেক অসহায় অসচ্ছল ব্যক্তিকে ১০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা। সেইমতে বরাদ্দের এসব চাল গত ৩০ মার্চ উত্তোলন করে ৩১ মার্চ বিতরণ করতে দেখা গেছে।
তবে, এ ব্যাপারে তানোর আন্দোলন প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক গৌতম চৌধুরী বলেন, বর্তমানে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ঘরের বাইরে বের হতে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। একারণে প্রতিবন্ধীরাও টানা ১৪ দিন ধরে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে। অনেক প্রতিবন্ধীর কোন কর্মক্ষমতা নেই। ভিক্ষাবৃত্তি ও সাহায্য সহায়তার উপর নির্ভর করে তাদের জীবন চলে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘরে অবস্থান করায় অনেক প্রতিবন্ধীর ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ হয়ে পড়েছে। বর্তমান পেক্ষাপটে সভ্য সমাজের কেউ আন্তরিক নয়। পাড়লে প্রতিবন্ধীদের ভাগও কেড়ে খাই। ইউনিয়ন পরিষদে জিআর প্রকল্পের চাল বিতরণ করা হয়। কিন্তু তিনি প্রতিবন্ধী হলেও তাকে এতোটুকু চাল দেননি চেয়ারম্যান ও মেম্বার বলে আক্ষেপ করেন গৌতম চৌধুরী।
তানোর আন্দোলন প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি সামশুল আলম বলেছেন, বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার আন্তরিক। কিন্তু প্রতিবন্ধীদেতর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইউনিয়ন ও পৌর পরিষদের মেয়র ও চেয়ারম্যানরা সরকারি সাহায্য ও সেবা প্রদানে উদাসিন। বর্তমান সরকার করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় মানবিক সহায়তা হিসেবে ‘জিআর’ প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক অসহায় অসচ্ছল ব্যক্তিকে ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়।
তিনি আরও জানান, অসহায় অসচ্ছল ব্যক্তি বলতে প্রথমে প্রতিবন্ধীকে বোঝায়। তাদের গ্রামে শহিদুল ইসলাম ওরফে ভুদল (১৯) নামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী রয়েছে। তার কোন কর্মক্ষমতা নেই। বর্তমানে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে তাকেসহ পুরো উপজেলার কোন প্রতিবন্ধীকে এতোটুকু সাহায্য ও সহায়তা দেয়া হয়নি। বেসরকারি এক সংস্থার জরিপ মতে তানোরে প্রায় ১৫ হাজারের উর্দ্ধে বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধী রয়েছে। এদের মধ্যে শুধু দুই হাজারের মতো প্রতিবন্ধী সরকার থেকে ভাতা পায়। তাও আবার সাড়ে ৩ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় সরকারি কিংবা বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবন্ধীদের পার্শ্বে দাঁড়ানোর আহবান জানান তিনি।
এব্যাপারে উপজেলার বাঁধাইড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেছেন, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় মানবিক সহায়তা হিসেবে ‘জিআর’ প্রকল্পের আওতায় অসহায় অসচ্ছল ব্যক্তিকে ১০ কেজি করে চাল দেয়া হয়। কিন্তু প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে ওইভাবে বলা হয়নি। এজন্য তাদের ভাগ্যে জোটেনি বলে এড়িয়ে যান তিনি।
এনিয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মতিনুর রহমান বলেছেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতিবন্ধীদের মানবিক সহায়তার জন্য সরকার ও কোন জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে কোন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিবন্ধীদের সাহায্য সহায়তা করতে মন চাই। কিন্তু উপায় নেই বলে আপেক্ষ করেন এই অফিসার।
এব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেছেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় মানবিক সহায়তার জন্য ‘জিআর’ প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ইউপি চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রদের মানুষের ঘরে ঘরে চাল ও ডাল পৌঁছে দিতে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়। এক্ষেত্রে কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।