করোনা ভাইরাস গোটা বিশ্বকে এলোমেলো না করে দিলে গত মাসের ২৯ তারিখেই মাঠে গড়াতো ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) এর ত্রয়োদশ আসর। প্রাথমিকভাবে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রিকেট লিগকে। তবে এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টটি এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে বা শেষের দিকে যে শুরু করা যাবে না তা মোটামুটি স্পষ্ট। করোনা ভাইরাসের কারণে ভারত সহ গোটা বিশ্বের পরিস্থিতি এমন যে, এ বছরই আর আইপিএল করা যাবে কি না তা নিয়ে আছে সন্দেহ। ভারতে চলছে ২১ দিনের লকডাউন। লকডাউনের মেয়াদ শেষ হলেও পরিস্থিতি ঠিক কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে তা বলা যাচ্ছে না। তারপর পরিস্থিতি যদি স্বাভাবিক হয়ও ভারতের আন্তর্জাতিক সূচির ম্যাচ আছে। এমতাবস্থায় আইপিএল মাঠে গড়ানোর জন্য সম্ভাব্য একটি উইন্ডোই দেখছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। সেটা অক্টোবর-নভেম্বর। ১৮ অক্টোবর থেকে শুরু হবার কথা রয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেটা না হলেই কেবল আইপিএল আলোর মুখ দেখবে বলে জানিয়েছেন বিসিসিআই এর এক দায়িত্বশীল কর্তা। ইন্দো-এশিয়ান নিউজ সার্ভিসের সঙ্গে আলাপে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিসিআই’র ঐ কর্মকর্তা বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের সীমান্ত বন্ধ। অস্ট্রেলিয়া বলেছে তাদের সীমান্ত ছয় মাসের জন্য লকডাউন করে দেওয়া হচ্ছে। করোনার বিস্তার রোধে একই পথে হাঁটতে পারে যুক্তরাজ্যও। জানি না ভারত সরকার আন্তর্জাতিক সীমান্তের ক্ষেত্রে কী করবে। এমন অবস্থায় আইপিএল আয়োজন করার মতো সময় দেখছি কেবল অক্টোবর-নভেম্বরে। কিন্তু ওই সময় বিশ্বকাপ আছে। এখন আইসিসি যদি ওই টুর্নামেন্ট বন্ধ করে দেয়, তাহলেই আমাদের আইপিএলের পথ খুলবে।’ তিনি বলেন আইপিএলের এবারের আসরকে আলোর মুখ দেখাতে অনেক অঙ্ক মিলতে হবে বিসিসিআই’র। করোনার প্রভাব শেষ হতে হবে, সকল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে হবে, বিশ্বকাপ পেছাতে হবে, ইত্যাদি। এখন অব্দি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক আইসিসি (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল) ও আয়োজক দেশ অস্ট্রেলিয়ার বোর্ড ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) বিশ্বকাপ স্থগিত হবার ব্যাপারে কিছু জানায়নি। আইসিসির সর্বশেষ বোর্ড সভাতেও (টেলি কনফারেন্স) এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসেনি। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হলে বিশ্বকাপ স্থগিত হবার সম্ভাবনা ক্ষীণই বলা যায়। সেক্ষেত্রে আইপিএলের এবারের আসর অন্ধকারেই রয়ে যাবে।