অবশেষে আইইডিসিআর -এর রিপোর্টে জানা গেল বগুড়ার শিবগঞ্জে শ্বাসকষ্টে মারা যাওয়া যুবক মাসুদ রানা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন না। এদিকে নমুনা পরিক্ষার রিপোর্ট হাতে পেয়ে এলাকায় লকডাউন প্রত্যাহার করে নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
গত শনিবার (২৮ মার্চ) ভোর রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার মহব্বত নন্দীপুর কুপা গ্রামে স্ত্রীর ভাড়া বাড়ীতে মারা যান মাসুদ রানা (৪৫)। তার মুত্যুর পর এলাকায় করোনাভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় আশেপাশের ১৫টি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করেন স্থানীয় প্রশাসন। পরে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা মৃতদেহ থেকে নমুনা হিসেবে মুখের লালা সংগ্রহ করে ঢাকায় আইইডিসিআরএ প্রেরণ করেন। এছাড়াও আইইডিসিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী মৃত ব্যক্তিকে সংক্রমক ব্যাধি আইন অনুযায়ী দাফন করেন স্থানীয় প্রশাসন।
করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়া যুবক মাসুদ রানার লাশ নিয়ে এলাকার একশ্রেণির নীতি নির্ধরকদের বাধা ও হট্টগোল ও নাটকিয়তার পর গত শনিবার রাত সাড়ে ৯ টায় তার লাশ দাফন করেছিলেন উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন।
এ বিষয়ে আরো জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসন প্রথমে ওই ব্যক্তিকে একই এলাকায় দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তুবাধা দেন তাতে এলাকাবাসী। এ অবস্থায় খানিকটা দূরে সরকারি মালিকানাধীন পীরের মাজারের পাশে দাফনের চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু তাতেও বাধা দেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। একপর্যায়ে তারা রাস্তা অবরোধ করে রাখে। পরে বগুড়া থেকে অতিরিক্ত ২ প্লাটুন পুলিশ নিয়ে তাদের হটিয়ে কড়া নিরাপত্তায় লাশ দাফনের ব্যবস্থা করে পুলিশ।
শিবগঞ্জ সার্কেল এর এসপি মুহা কুদরত-ই-খুদা শুভ বলেন,কয়েকজন দুষ্ট লোক এলাকায় ভুল বুঝিয়ে শতশত লোক জড়ো করে সেখানে। শিবগঞ্জ থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি সমার্বিক) মিজানুুুর রহমান মানুষকে বুঝিয়ে ঘরে ফেরান। কিন্তু কবর খোড়ার লোক না থাকায় এগিয়ে আসে পুলিশ। শিবগঞ্জ থানার সেকেন্ড কর্মকর্তা এস আই মোস্তাফিজ আর এস আই আহসান আরো দুই জনকে সাথে নিয়ে কবর খোড়েন।দাফনের পর মোনাজাত করেন উপজেলা চেয়ারম্যান রিজু।
বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান ,আইইডিসিআর থেকে পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী ওই মৃত ব্যক্তির দেহে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবীর জানান, সন্দেহজনক কারণে ওই বাড়িসহ পার্শ্ববর্তী ১৫টি বাড়িকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল। এখন লকডাউন প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।