প্রাণঘাতী নোবেল করোনা ভাইরাস নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার মধ্যেই ভাইরাস প্রতিরোধে ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ ও রিক্সা, ভ্যান, অটো, মাহিন্দ্র চালাক শ্রমিক গন কর্মহীন হয়ে ঘরবন্দি, মানুষের বাড়িতে বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিলেন বরিশালের আগৈলঝাড়া থানা কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) মো. আফজাল হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে যান চলাচল ও দোকানপাট বন্ধসহ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গতকাল রোববার উপজেলার বিভিন্ন বাজারের কাঁচাবাজার, ঔষধের দোকান ও নিত্যপণ্যের দোকানগুলোতে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার লক্ষে দোকানগুলোর সামনে নির্দিষ্ট দুরত্বে রং দিয়ে গোল চিহ্ন একে দেন আগৈলঝাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) মো. আফজাল হোসেন। এ সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার নিতে আসা কিশোর থেকে শুরুকরে বৃদ্ধ পর্যন্ত সকল ক্রেতাদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেন এবং প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস রোধে সকলকে সামাজিক নিরাপত্তা দুরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি সকলের সহযোগীতা কামনা করেন। এর আগেও থানায় সেবা নিতে আসা সকলের জন্য থানা চত্ত্বরে হাত ধোয়ার ব্যাবস্থা করেন তিনি। করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে এ সকল কাজ করছেন তিনি একেবারেই নিজ খরচে। করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দুরত্ব, পরিচ্ছন্নতা ও হাত ধোয়াকে যখন সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তখনই একজন সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত এই উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসা পাচ্ছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার নিতে আসা স্থানীয় দিনমজুর মোতালেব মিয়া বলেন, এটা সকলের জন্য খুব ভালো হয়েছে। ওসি’র এ ধরণের উদ্যোগকে আমরা সমর্থন করছি। আগৈলঝাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) মো. আফজাল হোসেন বলেন, করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইরত অবস্থায় গোটা দেশ। এরই ধারাবাহিকতায় আগৈলঝাড়া উপজেলা বাসীর জন্য কিছু করার ব্যক্তিগত তাড়না থেকেই উদ্যোগগুলো নিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, দেশের সচেতন যুবসমাজ এই কাজ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে একই রকম আরো অনেক মহতি উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে এছাড়াও আগৈলঝাড়ার এলাকার রিক্সা, ভ্যান, অটো, মাহিন্দ্র চালাক শ্রমিক গন কর্মহীন হয়ে ঘরবন্দি, এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবীরা। সেই কারণে নিজের অর্থায়নে খাদ্য নিয়ে কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছেন আগৈলঝাড়া থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ মো. আফজাল হোসেন।
শনিবার দিবাগত রাতে হতদরিদ্রদের মানুষের বাড়িতে বাড়িতে চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ খাবার পৌঁছে দিলেন আগৈলঝাড়া থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ মো. আফজাল হোসেন।
ওসি আফজাল হোসেন বলেন ‘সরকারের আদেশে সবাই ঘরে আছেন। ফলে যারা রিকশা চালান, ভেন চালান, ইজিবাইক চালান, মাহিন্দ্র চালান ও চায়ের দোকানদার সহ দিনমজুর সেইসব খেটে খাওয়া মানুষ দুরাবস্থা আছেন। আমি তাদের খোঁজ নিয়ে তালিকা করা কিছু পরিবারের সদস্যদের এ সহায়তা দিচ্ছি। তিনি আরও বলেন, ত্রাণ বিতরণকালে দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা প্রকৃত অর্থেই খুব কষ্টে আছেন। সামান্য সাহায্য পেয়েও তারা খুশি হয়েছেন। তারা অনেকে না খেয়ে, আবার অনেকে দু-এক বেলা খেয়ে দিন পার করছেন বলে জানিয়েছেন।