বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা জাগিয়েও আড়াইশ ছাড়িয়ে থেমে গেল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। টপ অর্ডারে তানজিদ হাসান ও রবিউল ইসলাম শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবকে এনে দিলেন ভালো শুরু। বাকিটা সারলেন তৌহিদ হৃদয় ও মাহিদুল ইসলাম। জয় দিয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শুরু করল তারুণ্যনির্ভর দলটি। ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে সোমবার ৭ উইকেটে জেতে শাইনপুকুর। ২৫৮ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ৩ বল বাকি থাকতে। মোহামেডানের প্রথম সাত ব্যাটসম্যানের ছয় জন যান দুই অঙ্কে। ফিফটি পর্যন্ত যেতে পারেন কেবল মাহমুদুল হাসান। শাইনপুকুরের প্রথম চার ব্যাটসম্যানের তিন জন-তানজিদ, রবিউল ও তৌহিদ হৃদয় করেন ফিফটি। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে অভিষেক মিত্র ও আবদুল মজিদের ব্যাটে শুরুটা ভালো করে মোহামেডান। অভিষেককে বোল্ড করে ৬১ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন হাসান মুরাদ। ক্রিজে গিয়েই বোলারদের ওপর চড়াও হন ইরফান শুক্কুর। এই কিপার-ব্যাটসম্যানের রান আউটে ভাঙে মজিদের সঙ্গে তার ৫৩ রানের জুটি। চার ছক্কা ও দুই চারে ৪০ বলে ৪৬ রান করেন শুক্কুর।
সাবধানী ব্যাটিংয়ে ৭৩ বলে ৪২ রান করা মজিদও থামেন রান আউট হয়ে। থিতু হয়ে নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি শামসুর রহমান। নাদিফ চৌধুরীকে দ্রুত থামান তানভীর ইসলাম। তাইবুরের সঙ্গে শুভাগত হোম চৌধুরীর ৬৬ রানের জুটিতে এগিয়ে যায় মোহামেডান। ২৫ বলে ৩১ রান করা শুভাগতকে ফিরিয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা জুটি ভাঙেন মোহর শেখ। পরের বলে থামান মাহমুদুলকে। ৬৩ বলে পাঁচ ছক্কা ও এক চারে ৫৮ রান করেন এই তরুণ অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার। রান তাড়ায় সাব্বির হোসেনের সঙ্গে তানজিদের ৫৩ রানের জুটিতে শুরুটা ভালো করে শাইনপুকুর। একটু সাবধানী শুরু করা তানজিদ পরে শট খেলতে শুরু করেন। তিনে নামা রবিউল শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক। তাদের ব্যাটে দ্রুত এগোয় দল। ফাইল ছবিফাইল ছবিমাহমুদুলের বলে লাইন মিস করে তানজিদ বোল্ড হলে ভাঙে ৫২ রানের জুটি। বিশ্বকাপ জয়ী অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এই ওপেনার তিন চার ও দুই ছক্কায় ৭৭ বলে করেন ৫৯। রান আউট হয়ে থামেন রবিউল। ৫১ বলে ৬ চারে এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান করেন ৫৪। অনেকটা ডেকে নিয়েই যেন তাকে রান আউট করানো হৃদয় শুরু থেকে ছিলেন সাবধানী। থমকে যাওয়া রানের চাকা সচল করার কাজটা করেন মাহিদুল। হৃদয়ের সঙ্গে এই কিপার-ব্যাটসম্যানের ৭৬ রানের জুটিতে এগিয়ে যায় শাইনপুকুর। এক চারে ৭৯ বলে ৫০ রান করে অধিনায়ক হৃদয় বিদায় নেওয়ার সময় ১৬ বলে শাইনপুকুরের প্রয়োজন ছিল ২২। দলকে জয়ের কাছে নিয়ে ফিরে যান মাহিদুলও। দুটি করে ছক্কা ও চারে ৪৭ বলে ৪৯ রান করেন এই তরুণ। রবিউল হককে নিয়ে বাকিটা সারেন সাজ্জাদুল হক।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব: ৫০ ওভারে ২৫৭/৮ (অভিষেক ২৯, মজিদ ৪২, শুক্কুর ৪৬, শামসুর ২৫, মাহমুদুল ৫৮, নাদিফ ৭, শুভাগত ৩১, আবু হায়দার ৭*, রাজ্জাক ২; মোহর ৭-০-৪৬-২, রবিউল হক ১০-০-৬৩-১, মুরাদ ১০-০-৪১-১, সাব্বির ৯-০-৩৯-০, রবিউল ৪-০-২৪-০, তানভীর ১০-০-৪৪-২)
শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব: ৪৯.৩ ওভারে ২৫৮/৫ (তানজিদ ৫৯, সাব্বির ২৫, রবিউল ৫৪, হৃদয় ৫০, মাহিদুল ৪৯, সাজ্জাদুল ১০*, রবিউল ৫*; আবু জায়েদ ৯.৩-১-৪৩-১, আবু হায়দার ১০-১-৪৩-১, তাসকিন ১০-০-৪৬-০, রাজ্জাক ১০-১-৫৭-১, শুভাগত ৬-০-৪৫-০, মাহমুদুল ৪-০-২০-১)
ফল: শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব ৫ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: তানজিদ হাসান