দশম শ্রেনির পাঠদানের সময় কোরআন, নবী ও ইসলাম সম্পর্কে কুরুচিপূর্ন মন্তব্য করার অভিযোগে সোমবার সকালে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। একপর্যায়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি জরুরি সভা করে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক উজ্জ্বল কুমার রায়কে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠণ করেছেন।
এর আগে রোববার জেলার গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের মেদাকুল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উজ্জ্বল কুমার রায়ের ওপর হামলা চালিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিলো। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিক্ষুব্ধরা জানান, রোববার মেদাকুল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উজ্জ্বল কুমার রায় দশম শ্রেনির রসায়ন বিষয়ে পাঠদানের জন্য শ্রেনি কক্ষে গিয়ে কোরআন, নবী ও ইসলাম সম্পর্কে কুরুচিপূর্ন ও বিরুপ মন্তব্য করেন। স্কুল ছুটির পরে শিক্ষর্থীরা বিষয়টি অভিভাবক ও এলাকাবাসিকে জানালে সকলেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।
এ ঘটনার জেরধরে রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে শিক্ষক উজ্জ্বল রায়ের ওপর হামলা চালিয়ে পিটিয়ে আহত করে। একপর্যায়ে সহকারী শিক্ষক উজ্জ্বল রায় প্রাণ রক্ষায় খালের মধ্যে ঝাঁপ দিয়ে খাল সাতরিয়ে কালকিনি উপজেলার ভাউতলী গ্রামের নাইয়াপাড়া আবদুর রব সরদারে ঘরে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে সহকারী শিক্ষক উজ্জ্বল কুমার রায়কে আটক করে পুলিশ হেফাজাতে থানায় নিয়ে আসেন।
কোরআন, নবী ও ইসলাম সম্পর্কে কুরুচিপূর্ন কটূক্তি ও বিরুপ মন্তব্য করার প্রতিবাদে ও ঘটনায় জড়িত শিক্ষক উজ্জলের দৃষ্টান্তমূলক বিচারে দাবিতে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী মেদাকুল হাইস্কুল মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
খবর পেয়ে খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ নুর আলম সেরনিয়াবাত এবং গৌরনদী মডেল থানার ওসি গোলাম ছরোয়ার ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।
গৌরনদী মডেল থানা হাজতে থাকা অবস্থায় সহকারী শিক্ষক উজ্জ্বল কুমার রায়ের কাছে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি গো-মাংস খাওয়া নিয়ে কথা বলেছি কিন্তু কোরআন, নবী ও ইসলাম সম্পর্কে কুরুচিপূর্ন খারাপ কোন মন্তব্য করেনি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক কৃষ্ণকান্ত ঘরামী বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সহকারী শিক্ষক উজ্জ্বল কুমার রায়কে সাময়িকভাবে বরখান্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্য আবদুল আহাদ মিয়াকে আহ্বায়ক ও প্রধানশিক্ষক কৃষ্ণকান্ত ঘরামী, দাতা সদস্য প্রজবাসি পোদ্দার, শিক্ষক প্রতিনিধি সমীর কুমার দে ও ইসলাম ধর্ম শিক্ষক মোঃ আমানুল্লাহকে সদস্য করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্বান্ত গ্রহন করা হবে।
খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ নুর আলম সেরনিয়াবাত এ প্রসঙ্গে বলেন, সহকারী শিক্ষক উজ্জ্বল কুমার রায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে ইসলাম, নবী ও কোরআন সম্পর্কে কটূক্তি করে শ্রেনিকক্ষে কথা বলায় এ পরিস্তিতির সৃষ্টি হয়। বিচারের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ মাহাবুবুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।