বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছে প্রেমিকা। পরিচয় গোপন করে মোবাইল ফোনে দুই বছরের প্রেম করে ঢাকায় গিয়ে নামে মাত্র বিয়ে করে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে প্রেমিক। কয়েক দিন যেতে না যেতেই শুরু করে প্রতারনা। এ কারণে শুক্রবার থেকে অনশনে বসে ওই প্রতারনার শিকার হওয়া প্রেমিকা। বিয়ে না করলে বিষপানে আত্মহত্যা করবেন বলে হুমকী দিয়েছে প্রেমিকা। এ দিকে অনশনের কারণে ঘরে তালা দিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়েছে প্রেমিকার পরিবারের লোকজন।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের দর্জিরপাড় গ্রামের শ্যামল মল্লিকের কলেজ পড়-য়া মেয়ে সাথী মল্লিকের সাথে পরিচয় গোপন রেখে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দুই বছর ধরে প্রেম করে আসছিল উপজেলার বাগপাড়া গ্রামের কানাই বৈষ্ণব এর ছেলে কর্নধর বৈষ্ণব। পরিচয় গোপন রেখে দুইবছর প্রেম করে গত ১৯জানুয়ারি ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে নামে মাত্র বিয়ে করে এক সাথে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করেন। ওই সময় কর্নধর বৈষ্ণব তার পরিচয় দেন জীবন বৈষ্ণব বাড়ির মাদারীপুরে। মাত্র ৮দিন সংসার করে সাথী মল্লিক বরিশালে পরীক্ষা দিতে এসে পূনরায় ফিরে গেলে তাকে আর বাসায় ঢুকতে দেয়নি কর্নধর। এরপর ওই এলাকার লোকজন কর্নধর বৈষ্ণবকে দিয়ে সাথীকে আত্মীয় কাছে পৌছে দেয়। এরপর সাথী মল্লিক তার ভাই রিপন মল্লিকের কাছে তাদের দুই জনের ছবি পাঠিয়ে দেয়। ছবি দেখে সে জানায় এর বাড়ি মাদারীপুর নয় এর বাড়ী আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের বাগপাড়া গ্রামের কানাই বৈষ্ণব ছেলে কর্নধর বৈষ্ণব। এখবর পেয়ে কর্নধর বৈষ্ণব ঢাকার লক্ষীপুরের ওই বাসা থেকে পালিয়ে যায়। এ কারণে শুক্রবার থেকে কর্নধর বৈষ্ণবের গ্রামের বাড়ী বাগপাড়ায় গিয়ে বিয়ের দাবীতে প্রেমিকা সাথী মল্লিক অনশনে বসেন। কর্নধর বৈষ্ণব এর (০১৯২২৪৬৩৬৪৭)নং মোবাইলে ফোন দেয়া হলে ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য রমেশ সরকার সাংবাদিকদের জানান, কর্নধর বৈষ্ণব এর পিতা কানাই বৈষ্ণব এর আবেদনে এক সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে। আগামী শুক্রবার ১৩ মার্চ মীমাংসা করে দেওয়া হবে।
আগৈলঝাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.আফজাল হোসেন জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।