মাশরাফি মুর্তজা যখন সংবাদ সম্মেলনে এসে বসলেন, সংবাদকর্মীদের প্রস্তুতি তখনও শেষ হয়নি। তখনও মাইক্রোফোন-রেকর্ডার ঠিক জায়গায় রাখার পালা চলছিল। অনেকে চেয়ার খুঁজছিলেন নিজের জায়গা করে নিতে। হুট করেই শোনা গেল মাশরাফি বিন মুর্তজার কণ্ঠ, “ধন্যবাদ সবাইকে, আমি কিছু বলতে চাই”। মুহূর্তেই বদলে গেল প্রেক্ষাপট। নড়েচড়ে বসলেন সবাই, তাকিয়ে রইলেন উদগ্রীব হয়ে। সবাই বুঝে গেলেন, গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘোষণা আসছে! এরপর নিজের বক্তব্যে মাশরাফি জানিয়ে দিলেন নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা। কিছু পয়েন্ট তিনি টুকে এনেছিলেন, আর বক্তব্যের শেষভাগের ছোট্ট অংশ ছিল লিখিত। “কালকে আমার শেষ ম্যাচ অধিনায়ক হিসেবে। আমার প্রতি এত দীর্ঘ সময় আস্থা রাখার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাই। আমার নেতৃত্বে যত ক্রিকেটার খেলেছে বাংলাদেশ দলে, সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আমি নিশ্চিত, এই প্রক্রিয়াটা সহজ ছিল না, গত ৪-৫ বছরের ভ্রমণ সহজ ছিল না।” “ধন্যবাদ জানাই টিম ম্যানেজমেন্ট যারা ছিলেন, যাদের কোচিংয়ে খেলেছি ও অধিনায়কত্ব করেছি। তারা সবাই আমাকে ঘনিষ্ঠভাবে অনেক সহযোগিতা করেছেন। যতটুকু মনে হয়, চন্দিকা হাথুরুসিংহের সময় আমার অধিনায়কত্ব শুরু হয়েছিল। এর আগে কিছুটা করেছি, কিন্তু সময় পাইনি ইনজুরির কারণে। তো হাথুরুসিংহে, খালেদ মাহমুদ, স্টিভ রোডস ও এখন রাসেল ডমিঙ্গোকে দিয়ে শেষ হচ্ছে। সবাইকে ধন্যবাদ।” “নির্বাচক ও বোর্ডের কর্মকর্তা যারা আছেন, বোর্ডের প্রতিটি স্টাফ থেকে শুরু করে বোর্ডের সবাইকে ধন্যবাদ সহযোগিতার জন্য। মিডিয়ার যারা আছেন, সবাই অত্যন্ত সহযোগিতা করেছেন, আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। সবশেষে সমর্থকেরা, যারা বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রাণ, আপনাদের সমর্থন ছাড়া অবশ্যই সম্ভব হতো না। সবাইকে ধন্যবাদ।” “আজকে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরে যাচ্ছি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে আমার শেষ ম্যাচ। খেলোয়াড় হিসেবে আমি চেষ্টা করব আমার সেরাটা দেওয়ার, যদি সুযোগ আসে।” “শুভকামনা থাকবে পরবর্তী অধিনায়কের জন্য। আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশ দলকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবেন ইনশাল্লাহ। আমি যদি দলে থাকি, আমিও চেষ্টা করব আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, ভেতরে যতটুকু আছে, তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার। ধন্যবাদ আপনাদের সবাইকে।