শ্রেয়াস আইয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি আর লোকেশ রাহুলের দুর্দান্ত ইনিংসে ভারত গড়েছিল বড় স্কোর। রেকর্ড রান তাড়ায় রস টেইলরের অপরাজিত সেঞ্চুরি পথ দেখাল নিউ জিল্যান্ডকে। দারুণ জয় দিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করল কিউইরা। ২১তম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে টেইলর করেছেন ৮৪ বলে ১০৯। হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে বুধবার ভারতকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে নিউ জিল্যান্ড। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেটে ৩৪৭ রান করে ভারত। ১১ বল হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় কিউইরা। ওয়ানডে ক্রিকেটে এটিই তাদের সর্বোচ্চ রান তাড়ায় জয়। ২০০৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই মাঠেই ৩৪৬ টপকে জয় ছিল আগের রেকর্ড। বড় লক্ষ্যে নিউ জিল্যান্ডকে দারুণ শুরু এনে দেন মার্টিন গাপটিল ও হেনরি নিকোলস। উদ্বোধনী জুটিতে দুজন তোলেন ৮৫ রান। ষোড়শ ওভারে গাপটিলকে (৩২) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন শার্দুল ঠাকুর। কেন উইলিয়ামসনের চোটে সুযোগ পাওয়া টম ব্লান্ডেল বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। অভিষেক ম্যাচে করতে পারেন ১০ বলে ৯। দ্রুত দুটি উইকেট হারানোর ধাক্কা কিউইরা সামলে ওঠে নিকোলস ও টেইলরের জুটিতে। তৃতীয় উইকেটে দুজনে গড়েন ৬২ রানের জুটি। ১১ চারে ৭৮ রান করে নিকোলস রান আউট হলে ভাঙে এই জুটি। ম্যাচ জেতানো জুটি এরপরই। টেইলর ও ল্যাথামের জুটিতে বল আর রানের ব্যবধান নাগালে নিয়ে আসে নিউ জিল্যান্ড। ৮০ বলে ১৩৮ রানের অসাধারণ জুটি গড়েন দুজন। ওই জুটি থামে ল্যাথামের বিদায়ে। ৪৮ বলে ৬৯ রানের দারুণ ইনিংস খেলে কিউইদের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ধরা পড়েন সীমানায়। ম্যাচ তখন নিউ জিল্যান্ডের নাগালে, জিততে প্রয়োজন ৫০ বলে ৩৯। কিন্তু জিমি নিশাম ও কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম এক ওভারেই বিদায় নিলে জমে ওঠে খেলা। টি-টোয়েন্টি সিরিজে বারবার কাছে গিয়েও কিউইদের হারের স্মৃতি উঁকি দিচ্ছিল আবার। তবে এবার তেমন কিছু হতে দেননি টেইলর। মিচেল স্যান্টনারকে নিয়ে জয় নিশ্চিত করে ফেরেন টেইলর। তার ১০৯ রানের ইনিংসে ১০ চারের সঙ্গে ছিল ৪টি ছক্কা। ম্যাচের শেষটা নিউ জিল্যান্ডের হলেও শুরুটা ছিল ভারতের। চতুর্থ ভারতীয় জুটি হিসেবে অভিষেকেই ইনিংস শুরু করতে নামেন মায়াঙ্ক আগারওয়াল ও পৃথ্বী শ। দলকে অর্ধশত রানের শুরু এনে দেন দুজন। অষ্টম ওভারে পৃথ্বীকে ফিরিয়ে ৫০ রানের জুটি ভাঙেন ডি গ্র্যান্ডহোম। পরের ওভারে আগারওয়ালকে ফেরান টিম সাউদি। তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও শ্রেয়াস আইয়ারের জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত পায় সফরকারীরা। শুরু থেকে সাবলীল কোহলি ফিফটি পূরণ করেন ৬১ বলে। ফিফটির পর অবশ্য বেশিক্ষণ টেকেননি ভারত অধিনায়ক। ইশ সোধির বলে দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে যান ৫১ রানে। ভাঙে ১০২ রানের জুটি। ক্রিজে গিয়েই বোলারদের ওপর চড়াও হন লোকেশ রাহুল। শুরুতে সময় নিলেও পরে রানের গতি বাড়ান শ্রেয়াস। কিউই ফিল্ডারদের সৌজন্যে ৮ ও ৮৩ রানে দুবার জীবন পেয়ে শ্রেয়াস ১০১ বলে পৌঁছান সেঞ্চুরিতে। ১১ চারের সঙ্গে ইনিংসে ছিল ১টি ছক্কা। শেষদিকে রাহুল ও কেদার যাদবের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সাড়ে তিনশর কাছে পৌঁছায় ভারত। ৬৪ বলে ৮৮ রানে অপরাজিত থাকেন রাহুল। ১৫ বলে ২৬ রানের ক্যামিও খেলেন যাদব। শেষ ১০ ওভারে ভারত তোলে ৯৬ রান। কিন্তু সেই রানও যথেষ্ট হয়নি জয়ের জন্য।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ৫০ ওভারে ৩৪৭/৪ (পৃথ্বী ২০, মায়াঙ্ক ৩২, কোহলি ৫১, শ্রেয়াস ১০৩, রাহুল ৮৮*, কেদার ২৬; সাউদি ১০-১-৮৫-২, বেনেট ১০-০-৭৭-০, ডি গ্র্যান্ডহোম ৮-০-৪১-১, নিশাম ৮-০-৫২-০, স্যান্টনার ১০-০-৫৮-০, সোধি ৪-০-২৭-১)
নিউ জিল্যান্ড: ৪৮.১ ওভারে ৩৪৮/৬ (গাপটিল ৩২, নিকোলস ৭৮, ব্লান্ডেল ৯, টেইলর ১০৯*, ল্যাথাম ৬৯, নিশাম ৯, ডি গ্র্যান্ডহোম ১, স্যান্টনার ১২*; বুমরাহ ১০-১-৫৩-০, শামি ৯.১-০-৬৩-১, শার্দুল ৯-০-৮০-১, জাদেজা ১০-০-৬৪-০, কুলদিপ ১০-০-৮৪-২)
ফল: নিউ জিল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে নিউ জিল্যান্ড ১-০ তে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: রস টেইলর