শীত মৌসুম সাধারণত ইলিশশুন্য হিসেবে পরিচিত কিন্তু তার ব্যতিক্রম ঘটিয়ে এবারের চলতি শীত মৌসুমেও বরিশালের বাজারে ২০ বছর আগের জৌলুস ফিরে এসেছে। এবার উল্লেখযোগ্য হারে ইলিশের দেখা পাওয়া যাচ্ছে প্রতিটি বাজারে। নদী ও সাগর থেকে জেলেরা প্রচুর পরিমান ইলিশ শিকার করে পাইকারী মোকামে আমদানি করায় শুধু নগরীর পোর্ট রোডস্থ পাইকারী বাজারেই নয়; স্থানীয় খুচরা বাজারগুলোতেও পাওয়া যাচ্ছে রূপালী ইলিশ।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু স্থানীয় বাজার নয়; বরিশাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এসব ইলিশ পাঠানো হচ্ছে। আর আমদানি ভালো থাকায় দামও অনেকটাই কম। মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ইলিশের মূলত দুটি মৌসুম। একটি সেপ্টেম্বর-অক্টোবর, অন্যটি জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে। আমাদের দেশে অতিআহরণের ফলে ইলিশের দুটি মৌসুমের মধ্যে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের ইলিশ মৌসুমটি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। তবে বিগত কয়েক বছরে সরকারের সময়পযোগী নানা ইতিবাচক উদ্যোগের কারণে অভ্যন্তরীণ নদ-নদী ও সাগরে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। তারই বদৌলতে এখন বিলুপ্ত মৌসুমেও দেখা মিলছে রূপালী ইলিশ।
জেলেরা বলছেন, চলতি বছর নিয়মিত মৌসুমের বাইরেও সাগরের পাশাপাশি নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পরছে। এর আগে মানবসৃষ্ট নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এবং আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক বিভিন্ন বিপর্যয়ের ফলে বিশেষ করে নদীতে ইলিশ তেমন একটা ধরা পরছিলোনা। অপরদিকে শীত মৌসুমেও ইলিশ সহজলভ্য হওয়ায় ব্যাপক খুশি মাছ ব্যাবসায়ীরা। তারা বলছেন, বিগত বছরগুলোতে এই সময় অনেকটাই ইলিশশুন্য থাকতো বরিশালের পোর্ট রোডের ইলিশ মোকাম। যাওবা কিছু ইলিশ পাওয়া যেতো তার দাম ছিল আকাশছোঁয়া। এবছর গত ২০ বছরের রেকর্ড ভেঙ্গে শীত মৌসুমে ইলিশের আমদানি থাকায় দাম অনেকটাই সবধরনের ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে।
নগরীর পোর্টরোডের মাছ ব্যবসায়ী ইয়াকুব আলী জানান, অতীতের শীত মৌসুমে ইলিশের চাহিদা তেমন একটা ছিলো না, তাই এ সময়টাতে দাম এমনিতেই বেশিছিলো। এবার শীত মৌসুমে নদ-নদীতে ইলিশ ধরা পরায় দাম কমে গেছে। এখন পাঁচশ’ গ্রাম থেকে ১২শ’ গ্রাম পর্যন্ত আকার ভেদে ইলিশ প্রতিমণ ২০ থেকে ৩৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাইকাররা এসব ইলিশ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাচ্ছেন। মাছ ব্যাবসায়ী ইয়াকুব আলী আরও জানান, বরিশালে ইলিশের সংরক্ষণাগার থাকলে বছরের বারো মাসই দেশের মানুষকে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর ইলিশের স্বাদ দেয়া যেতো।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মা ইলিশ রক্ষা, জাটকা নিধন বন্ধ ও কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন অবৈধ জাল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকা এবং নানামুখী অভিযানের কারণে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। যার সুফল পেতে শুরু করেছে জেলে থেকে শুরু করে গোটা বরিশালবাসী। তিনি আরও বলেন, একই সাথে চলতি শীত মৌসুমে প্রায় ২০ বছর আগের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের ইলিশ মৌসুম ফিরে এসেছে।