বিপিএলে পারফরম্যান্সে মেহেদি হাসান রানা এগিয়ে যোজন যোজন। গতি আর স্কিল দিয়ে নজর কাড়া ইবাদত হোসেনকেও উপেক্ষা করা কঠিন। তবে জাতীয় নির্বাচকেরা উপহার দিলেন চমক। ওই দুজনের কেউ নন, পাকিস্তান সফরের বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পেলেন হাসান মাহমুদ। ত্রিমুখী লড়াইয়ে কীভাবে জিতলেন হাসান? প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন জানালেন, গতি আর সম্ভাবনাই এগিয়ে দিয়েছে তরুণ পেসারকে। ১৫ জনের স্কোয়াডে পেসার ৫ জন। তবে এই একটি জায়গা নিয়েই আলোচনা হয়েছে বেশি। মুস্তাফিজুর রহমান, আল আমিন হোসেন, শফিউল ইসলামকে নিয়ে নির্বাচকদের সংশয় ছিল না। বিপিএলে দারুণ পারফরম্যান্সে রুবেল হোসেনের ফেরাও ছিল অনেকটা নিশ্চিত। বাকি একটি জায়গার বিবেচনায় ছিলেন তিনজন। পরিসংখ্যানে এবারের বিপিএলে এই তিন জনের মধ্যে অনেকটাই পিছিয়ে হাসান। তবে শুধু সংখ্যায় তো কেবল ফুটিয়ে তোলে পারফরম্যান্সের একটি দিক। বোলিংয়ের নানা দিক, ‘এক্স ফ্যাক্টর’, বয়স আর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, সব মিলিয়েই নির্বাচকরা বেছে নিয়েছেন ২০ বছর বয়সী হাসানকে। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন জানালেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভাবনায়ও হাসানকে রেখেছেন তারা। সেদিকে তাকিয়ে তাদের মনে হয়েছে, এই তরুণকে দলে নেয়ার উপযুক্ত সময় এখনই। “গতিময় একজন পেসার তো আমরা খুঁজছিই। হাসানের স্কিলও ভালো। দ্রুত শিখছে। ওর ভবিষ্যৎ অনেক উজ্জ্বল। আমাদের মনে হয়েছে, জাতীয় দলের সঙ্গে থাকলে হাসান শিখতে পারবে অনেক। ক্যাম্পে থাকলে, সফরে গেলে অনেককিছু শেখা যায়।” “পাকিস্তান সফরের পর জিম্বাবুয়ে সিরিজ আছে। সামনেও খেলা আছে। দলের সঙ্গে থাকলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে হাসান প্রস্তুত হয়ে উঠবে বলে আশা করি।” মেহেদি হাসান রানাবিপিএলে এবার ১৩ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন হাসান, রান দিয়েছেন ওভারপ্রতি ৯.২০। পরিসংখ্যান বিবর্ণ হলেও উজ্জ্বল সম্ভাবনার বার্তা তিনি দিয়েছেন ম্যাচের পর ম্যাচ। সহজাত গতি, দুই দিকে সুইং, দারুণ স্লোয়ার ডেলিভারি আর পরিস্থিতি বুঝে মাথা খাটিয়ে বোলিংয়ে তিনি নিজেকে চিনিয়েছেন আলাদা করে। বাঁহাতি পেসার মেহেদি রানার পরিসংখ্যান এই বিপিএলে দারুণ সমৃদ্ধ। ১০ ম্যাচে নিয়েছেন ১৮ উইকেট। ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন সাড়ে সাত। ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্সও দেখিয়েছেন ম্যাচের পর ম্যাচ। তিনটি ম্যাচে পেয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। তবে ২৩ বছর বয়সী এই পেসারকে আরও দেখতে চান প্রধান নির্বাচক। “বিপিএলে রানা দারুণ করেছে, সন্দেহ নেই। তবে তার আগে এসএ গেমসে ভালো করেনি। বিসিবি একাদশ বা অন্যান্য ম্যাচে দারুণ কিছু করতে পারেনি। আমরা চাই, ‘এ’ দল আর অন্যান্য ম্যাচগুলি খেলুক আরও। তাছাড়া, ওর ধরনের পেসার আছে দলে। আমরা গতিময় কাউকে নিতে চেয়েছিলাম, যাকে সামনে কাজে লাগাতে পারি।” ইবাদত হোসেনগতির বিবেচনায় হাসানের চেয়ে এগিয়ে থাকার কথা ইবাদতের। এবারের বিপিএলে ধারাবাহিকভাবে দেশের সবচেয়ে গতিময় পেসার ছিলেন সম্ভবত তিনিই। সিলেট থান্ডারের হয়ে খেলা পেসার আলাদা ছাপ রেখেছেন দুর্দান্ত স্কিল দিয়েও। সুইং, বাউন্স তো ছিলই, শেন ওয়াটসনকে দুই ম্যাচে বোল্ড করা তার দুটি ইয়র্কার, এবারের বিপিএলের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়। মিনহাজুল জানালেন, ইবাদতকে প্রস্তুত করে তুলতে চান তারা আরও বড় চ্যালেঞ্জের জন্য। “ইবাদতকে টেস্টের জন্য ভেবে রেখেছি আমরা। টেস্টে ওর মতো একজন ফাস্ট বোলার আমাদের প্রয়োজন। এই বছর অনেক টেস্ট আছে। ওকে সেজন্য তৈরি করে তুলতে চাই।”